ইতিহাস

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

অবস্থান: রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের দামনাশ বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে দামনাশ মহাবিদ্যালয়ের অবস্থান।

সংক্ষিপ্ত: ১৯৯৯ খ্বীষ্টাব্দের শুরুতে এলাকার শিক্ষিত ও গণ্য-মাণ্য ব্যক্তিবর্গ দামনাশ বাজারের দামনাশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একত্রিত হয়ে ছোট বৈঠকের মাধ্যমে তাদের চিন্তা চেতনায় এখানে অর্থাৎ দামনাশ বাজারে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংকল্প করেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় পার্শ্ববর্তি ৭/৮ কি: মি: এর মধ্যে যেহেতু কোন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই সেহেতু দামনাশ বাজারের পার্শ্বে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকার গরিব ছেলে-মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। এছাড়া অত্র দামনাশ বাজারে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান এবং ৪/৫ কি: মি: এর মধ্যে আরো ৬/৭ টি (মান্দা-বাগমারার সিমানায়) উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠান হতে এস.এস.সি/সমান পরীক্ষায় প্রায় তিনশতাধিক ছাত্র/ছাত্রী পাশ করে অথচ ৫০% ছেলে/মেয়ে মহাবিদ্যালয় না থাকায় ঝরে পড়ে এ বিষয় গুলো বিবেচনা করে ঐ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামীতে আশপাশের ১০/১২ গ্রামের যেমন, দামনাশ, পারদামনাশ, দেওপাড়া, বিলমাললী, বোয়ালিয়া গোবিন্দপাড়া, মান্দার গোপালপুর, চকগেৌরী, রাজনগর, চকমানিক, হুলিবাড়ী, পারইটুঙ্গীর গন্যমান্য ও শিক্ষিত মানুষদের নিয়ে একটি সাধারণ সভার আহবান করা হবে এবং সেখানে সকলের মতামতের ভিত্তিতে ও সহযোগীতায় মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আরম্ভ করা যাবে, সে দিন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠক সমাপ্তি করেন।
এর পর ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ২য় সপ্তাহে উল্লেখিত ১০/১২ গ্রামের গণ্য মাণ্য ব্যক্তিবর্গ, ইউনিয়নের চেরাম্যানসহ প্রায় ১৫০০ জনকে চিঠির মাধ্যমে জনাব মো: আা: গফুর আহবায়ক হয়ে সাধারণ সভা আহবান করেন দামনাশ উ: বিদ্যালয় মাঠে। উক্ত সভায় ইউ.পি চেরাম্যান সহ ১০/১৫ জন বক্তা বক্তব্য পেশ করেন। তাদের সকলের বক্তব্যে দামনাশ বাজারে অতিসত্ত্বর একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আহবান জানানোর বিষয়টি উঠে আসে। সেই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ও করতালির মাধ্যমে সতস্ফুতভাবে মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। উপস্থিত সকলে মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সকল প্রকার সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন। ঐ সভাতেই মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয় এবং গৃহিত হয়। প্রস্তাব মোতাবেক মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে জনাব মো: আ: গফুরকে, সহ-সভাপ্রতি হিসেবে জনাব মো: আবুল হোসেন শেখকে এবং সদস্য হিসেবে যথাক্রমে জনাব মো: এনামুল হক সরদার, মো: মোজাম্মেল হক সরদার, জনাব সুরাত আলী প্রাং ,জনাব  হরিচরণ তরফদার, জনাব মো: লোকমান আলী, জনাব মো: ইব্রাহিম হোসেন কে নিযুক্ত করা হয়। এরপর মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি প্রয়োজন তা পুরন করার লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় নিম্মবর্ণিত ব্যক্তিবর্গ জমি দান করেন।

জমি দাতাগন:

  •  মরহুম আ: জব্বার প্রাং
  • মরহুম নওসাদ আলী সরদার
  • মরহুমা শুকমন বেওয়া
  • মুহ: আব্দুল মান্নান (বর্তমান অধ্যক্ষ্য)
  • জনাব মো: ফরহাদ হোসেন সরদার
  • জনাব মো: আব্দুল হাকিম (বর্তমান প্রভাষক ই: শি:)
  • জনাব মো: মোজাম্মেল হক সরদার
  • জনাব মো: একরামুল হক সরদার
  • জনাব মো: জহুরুল ইসলাম সরদার
  • জনাব মো: আবুল হোসেন শেখ
  • জনাব আলহাজ ইব্রাহিম হোসেন

জমি রেজিষ্ট্রি সমপূর্ণ হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত একজন অধ্যক নিযুক্ত করা হয় তিনি হলেন জনাব মো: আনোয়ার হোসেন। এরপর সভাপিত কমিটির সদস্যবৃন্দ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহ এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের আর্থিক ও কাইক পরিশ্রম সহ  বাঁশ, কাঠ, টিন, চেয়ার, বেঞ্চ দানের মাধ্যমে  ১৯৯৯ সালের ৩০ মে মহাবিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্ত: স্থাপন করে চাটাই বেড়া ও টিন শেডের মধ্যে পাঁচটি ঘর নির্মান করা হয়। পরবর্তিতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে একাদশ শ্রেণীতে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির অনুমতি প্রার্থনা করলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মহাবিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন অন্তে ১৯৯৯ সালের তারিখ পাঠদানের অনুমতি প্রদান করে। এরপর প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ প্রদান করা হয় অস্থায়ীভাবে এবং প্রথম ব্যাচে ২৭ জন ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ২০০০ সালে ২য় ব্যাচে ৮৬ জন ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা হয়। অকাঠামো উন্নত করা হয়। ২০০১ সালে প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল লাভ করে । ২০০২ সালের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে মরহুম এস.এম নজরুল ইসলাম নিযুক্ত হন এরপর জনাব মো: সাহাবুল হক ৩ মাস ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
তারপর ২০০২ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রদান করা হয় জনাব মুহা: আব্দুল মান্নান (বর্তমান অধ্যক্ষ) কে ২০০২ সালেই একাডেমিক স্বীকৃতি জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করলে ২৫/০৬/২০০২ তারিখ বোর্ডের পরিদর্শক জনাব মনিরুল হক মহাবিদ্যালয় পরিদর্শন অন্তে মহাবিদ্যালয়ের মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা তিনটি শাখাতেই ৩১/০৭/২০০২ তারিখ একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান করেন ।
এরপর ধারাবাহিক ভাবে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে আরো ভালো ফলাফল (H.S.C) অর্জন করায় ২০০৪ সালের ১মে হতে প্রতিষ্ঠান এম.পি.ও ভুক্তির জন্য আদেশ প্রাপ্ত হয় এবং শিক্ষক কর্মচারী গণ এম.পি.ও ভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা ২৮৬ জন। কর্মরত শিক্ষক কর্মচারী-৩৬ জন। প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক ভালো ফলাফল অব্যাহত আছে প্রতিবছর ১০/১২ A+ সহ পাশের বিগত তিন বৎসরে গড় ৮৬%। মহাবিদ্যালয়ে বর্তমানে ২টি ভবন, প্রধান ফটকসহ সামান্য প্রাচীরে ঘিরা।সর্বশেষ গত অক্টোবর ২০১৫ প্রতিষ্ঠানটি ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত করনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।